ডেস্ক রিপোর্ট | (BNN)
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুদ্ধাবস্থার উত্তেজনার মধ্যেই পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে ঈদের আনন্দের পাশাপাশি বিরাজ করছে নিরাপত্তা শঙ্কা ও অনিশ্চয়তার আবহ।
এক মাসের সিয়াম সাধনার পর যখন মুসলিম বিশ্ব ঈদ উদযাপনে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত ২১ দিনে গড়িয়েছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা এবং সেগুলো প্রতিহত করতে আমিরাতের এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থার সক্রিয়তা এখন প্রায় নৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তুলনামূলক স্থিতিশীল ও নিরাপদ হিসেবে পরিচিত সংযুক্ত আরব আমিরাত এই পরিস্থিতিতে নতুন করে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
বুধবার সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের পর আরব দেশগুলো একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে। এতে ইরানের “ইচ্ছাকৃত হামলার” তীব্র নিন্দা জানানো হয়। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, এসব হামলায় আবাসিক এলাকা, বেসামরিক অবকাঠামো এবং কূটনৈতিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হয়েছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি।
যদিও এখন পর্যন্ত আমিরাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে সীমিত, তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে দেশের অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বিশ্ব অর্থনীতিতেও চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
এদিকে ঈদুল ফিতরের নামাজ সংযুক্ত আরব আমিরাতজুড়ে নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আবুধাবিতে সকাল ৬টা ৪৪ মিনিট এবং দুবাইতে সকাল ৬টা ৪২ মিনিটে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, শুধুমাত্র অনুমোদিত মসজিদে ঈদের নামাজ আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয় এবং খোলা মাঠে জামাত আয়োজন থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা হবে।

0 Comments