নিজস্ব প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম: কয়েক মাস ধরে ওঠানামা করা পেঁয়াজের দাম ভোক্তাদের জন্য চাপ বাড়ালেও বাজারে ভরসা জুগিয়েছে দেশীয় উৎপাদন। দীর্ঘদিন ধরে আমদানিনির্ভর এই পণ্যে এবার প্রথমবারের মতো ভারত ছাড়া দেশের নিজস্ব উৎপাদন দিয়েই প্রায় পুরো চাহিদা পূরণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে বছরে ৩৮ থেকে ৪০ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজের প্রয়োজন হয়। কৃষকরা উৎপাদন করেন প্রায় ৩২ লাখ টন। পূর্বে সাত থেকে আট লাখ টন আমদানি করতে হতো, যার প্রায় সবই আসত ভারত থেকে। তবে এ বছর ফলন ভালো হওয়া এবং সরকারের দেশীয় কৃষি সুরক্ষামূলক নীতির কারণে আমদানি প্রায় বন্ধ ছিল।
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে ঘুরে দেখা গেছে, গত আগস্ট থেকেই বাজারে দাম উপরে। অক্টোবরের শুরুতে খুচরায় কেজি ১০০ টাকা ছাড়ায়। চলতি সপ্তাহে পুরনো দেশি পেঁয়াজ ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর আগাম মৌসুমের মেহেরপুরের পেঁয়াজ বাজারে এলেও দামের ওপর তেমন প্রভাব পড়েনি।
হামিদুল্লাহ মিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস বলেন, “দেশি পেঁয়াজের মজুত বিভিন্ন মোকামে প্রায় শেষ। ভারত থেকেও আমদানি বন্ধ আছে। তাই বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। নতুন ফলন উঠতে আরও সময় লাগবে।” তাঁর মতে, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বাজার অস্থিরতা থাকার সম্ভাবনা আছে।
খাতুনগঞ্জের আড়তগুলোতে নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ সীমিত। কয়েকটি আড়তে অল্প পরিমাণ নতুন পেঁয়াজ দেখা গেছে। আড়তদারদের ভাষায়, এই পরিমাণ দিয়ে বাজার স্বাভাবিক হবে না। মোকাম থেকে নতুন পেঁয়াজ আসতে সময় লাগবে আরও দুই সপ্তাহ।
চাক্তাই আড়তদার মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফোরকান বলেন, “এবার প্রায় পুরো বছর দেশীয় পেঁয়াজ দিয়ে ব্যবসা হয়েছে। আমদানি না থাকায় কৃষক ভালো দাম পেয়েছেন। যদিও আমদানি থাকলে দামের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকে, তারপরও দেশীয় উৎপাদনে এই সাফল্য ইতিবাচক।”
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্যমতে, এ বছর পেঁয়াজ আমদানি কমেছে প্রায় ৯৮ শতাংশ। জানুয়ারি থেকে মার্চে ২০ হাজার টন এবং জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র ১৩ হাজার টন পেঁয়াজ দেশে এসেছে। পাকিস্তান, চীন, মিশর, তুরস্ক থেকে আসা পেঁয়াজের পরিমাণও ছিল খুবই কম।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে ৪৪ লাখ মেট্রিক টনের বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। সংরক্ষণ জটিলতায় বাজারে আসে প্রায় ৩৩ লাখ টন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদা কমে যাওয়ায় ঘাটতি সত্ত্বেও বাজার বড় সংকটে পড়েনি।
আড়তদার মো. ইদ্রিস বলেন, “আমদানি কমা ভালো দিক, তবে পুরোপুরি দেশীয় পণ্যনির্ভর হলে বাজারে সিন্ডিকেটের ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই নজরদারি বাড়ানো জরুরি।”
দেশীয় উৎপাদন বাড়ায় আমদানিনির্ভরতা কমেছে। নতুন মৌসুমের পেঁয়াজ বাজারে উঠলে জানুয়ারি থেকেই দাম কিছুটা স্বস্তির দিকে যাবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

0 Comments