নিজস্ব প্রতিনিধি
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শরীফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঘোষিত অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। পরিবর্তিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ শুক্রবার বিকেল ৪টায় বাংলামোটর থেকে বিক্ষোভ মিছিল করবে দলটি।
দুপুরে এক বার্তায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম কর্মসূচি স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, জুমার নামাজের পর যেকোনো কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। গতকালের মতো ভাঙচুর ও নাশকতার পরিকল্পনা থাকতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। এ ধরনের সহিংসতা ও নাশকতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এনসিপি।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, জনগণের ক্ষোভকে পুঁজি করে কোনো হঠকারী গোষ্ঠী যাতে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ বা নাশকতামূলক কার্যক্রম চালাতে না পারে, সে বিষয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে শাহবাগের কর্মসূচি স্থগিত করে বিকেলে বিক্ষোভ মিছিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বৃহস্পতিবার রাত থেকেই রাজধানী ঢাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু হয়, যা পরে দেশের কয়েকটি জেলাতেও বিস্তৃত হয়। বিক্ষোভের এক পর্যায়ে দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার ভবনে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। হামলার কারণে নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতিতে শুক্রবার পত্রিকা দুটি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
প্রথম আলোর এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “কর্মীদের নিরাপত্তাই আমাদের প্রথম বিবেচনা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অফিসিয়াল কার্যক্রম সীমিত রাখা হয়েছে।” ডেইলি স্টারের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, হামলার ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে।
পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “যে কোনো সহিংসতা বা নাশকতার বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি।”
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে নির্বাচনী প্রচারণা শেষে ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরীফ ওসমান হাদি। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার তিনি মারা যান।
হাদির হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন পৃথক কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
.jpg)
0 Comments