নিজস্ব প্রতিনিধি
চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিঙ্গাপুরে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করা ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৫৮৫ ফ্লাইট শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। মরদেহটি বিমানবন্দরের ৮ নম্বর হ্যাঙ্গার গেট দিয়ে বের করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মাদ কাউছার মাহমুদ বলেন, নির্ধারিত সময়েই ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণ করে এবং মরদেহ হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
এদিকে মরদেহ দেশে পৌঁছানোর খবরে বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্ভাব্য জনসমাগম ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় বিমানবন্দর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, বিজিবি, এপিবিএন ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। একাধিক নিরাপত্তা চেকপোস্ট বসানো হয় টার্মিনাল ও হ্যাঙ্গার গেটের আশপাশে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা পরিকল্পনা জোরদার করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। মরদেহ বহন ও পরবর্তী কর্মসূচি নির্বিঘ্ন করতে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।”
পরিবার ও ইনকিলাব মঞ্চের নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিমানবন্দর থেকে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সরাসরি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে নেওয়া হবে। সেখানে দলীয় নেতাকর্মী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ঢল নামতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ইনকিলাব মঞ্চের এক শীর্ষ নেতা প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “শহীদ হাদির মৃত্যু আমাদের আন্দোলনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। জনগণের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার মধ্য দিয়েই আমরা তাকে শেষ বিদায় জানাতে চাই।”
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ১০টার দিকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। তার মৃত্যুর খবর ঢাকায় পৌঁছানোর পর কারওয়ান বাজারসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় কয়েকটি স্থানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

0 Comments