দৈনিক জাতীয় সংবাদ : নিজস্ব প্রতিনিধি
সিলেট বিএনপির রিভিউ প্রত্যাশীদের জন্য বড় ধাক্কা এসেছে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যে। এরই মধ্যে দল যেসব আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে, সেগুলো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন বৃহস্পতিবার বিকেলে গুলশানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে।
এই ঘোষণা ছড়িয়ে পড়তেই সিলেট বিএনপিতে হতাশার স্রোত বইতে শুরু করেছে। বিশেষ করে সিলেট-৩ ও সিলেট-৬ আসনে রিভিউর যে জোরালো দাবি উঠছিল, তা যেন মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায়। দুই আসনেই দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা অনেক নেতা মনে করছিলেন, মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার সুযোগ এখনও আছে। কিন্তু মহাসচিবের অবস্থান পরিষ্কার হওয়ার পর তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও ক্ষোভ বাড়ছে।
দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ আসনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে আগেই নাম এসেছে এমএ মালিকের। ঘোষণার পর থেকেই রিভিউর দাবিতে সরব ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পাদক ব্যারিস্টার এমএ সালামের অনুসারীরা। ব্যারিস্টার সালাম লন্ডন থেকে ফিরে মাজার জিয়ারত করে মাঠে নেমেছিলেন, তখন অনেকেই ধরে নিয়েছিলো সিদ্ধান্ত তার পক্ষে ঘুরতে পারে।
কিন্তু মহাসচিবের বক্তব্য তাদের সব হিসাব ওলটপালট করে দিয়েছে। সিলেট-৩–এর কয়েকজন নেতা দৈনিক জাতীয় সংবাদ–কে বলেন, ঘোষণা শোনার পর তারা হতাশ হলেও এখনই বিদ্রোহ বা নীরবতার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না। তাদের ভাষায়, “এখন সবাই মিলে আলোচনা করেই পরের সিদ্ধান্ত হবে। দলীয় সিদ্ধান্তকে অগ্রাহ্য করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।”
গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার আসনে এবার মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী। গত নির্বাচনে লক্ষাধিক ভোট পাওয়া ফয়সল আহমদ চৌধুরীর অনুসারীরা এ আসনে রিভিউর দাবিতে সোচ্চার ছিলেন। তারা বিশ্বাস করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত পাল্টে যেতে পারে।
দৈনিক জাতীয় সংবাদকে স্থানীয় কয়েকজন নেতা জানান, “জামায়াতের প্রার্থী খুব শক্তিশালী। ফয়সল ভাই মাঠে বেশি গ্রহণযোগ্য ছিলেন। তাই রিভিউ হলে ভালো হতো।” কিন্তু মহাসচিবের মন্তব্য তাদের আশাকে পুরোপুরি নিভিয়ে দিয়েছে।
দলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে জানা যাওয়ার পর এ বলয়ে হতাশা আরও ঘনীভূত হয়। কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক। তাদের আশঙ্কা, সিদ্ধান্ত বদলের আর কোনো সুযোগ না থাকায় মাঠপর্যায়ে বিভাজন আরও বাড়তে পারে।
এখন কী করবে রিভিউ প্রত্যাশীরা
উভয় আসনেই এখন আলোচনা একটাই—দলীয় সিদ্ধান্ত মানা হবে, নাকি নীরব প্রতিবাদ চলবে। অনেক নেতা মনে করছেন, সংগঠনগত বাস্তবতা মাথায় রেখে শেষ পর্যন্ত মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা ছাড়া উপায় নেই।
দৈনিক জাতীয় সংবাদকে দায়িত্বশীল একজন নেতার ভাষায়, “হতাশা আছে, তবু দল বড়। শেষ সিদ্ধান্ত মানতেই হবে। তবে এই মনোনয়ন কেন এবং কীভাবে হলো, সে প্রশ্ন দলের ভেতরে থাকবে।”
সিলেট বিএনপিতে এখনো ক্ষোভ, অনিশ্চয়তা ও হিসাবনিকাশ চলছে। তবে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই—এটাই এখন স্পষ্ট। দলের তৃণমূল এই বাস্তবতা কীভাবে গ্রহণ করে, সেটাই দেখার বিষয়।

0 Comments