দৈনিক জাতীয় সংবাদ : নিজস্ব প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় জিংকসমৃদ্ধ ধান চাষ বাড়াতে আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা ইনস্টিটিউট (IFPRI) এবং হারভেস্টপ্লাসের রিঅ্যাক্টস-ইন প্রকল্পের উদ্যোগে অগ্রণী কৃষকদের নিয়ে প্রশিক্ষণ ও বীজ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রহিমানপুর ইউনিয়নের হরিহরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ওয়ার্ল্ড ভিশন ও ইএসডিওর যৌথ ব্যবস্থাপনায় এ আয়োজন হয়।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. নাসিরুল আলম। প্রধান অতিথি হারভেস্টপ্লাস বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার কৃষিবিদ মো. ওয়াহিদুল আমিন তপু দৈনিক জাতীয় সংবাদকে বলেন, “জিংকধানের জাতগুলো মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের পুষ্টি ঘাটতি কমাতে বড় ভূমিকা রাখবে। ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকদের আগ্রহ প্রশংসার যোগ্য।”
বিশেষ অতিথি প্রোগ্রাম ম্যানেজার কৃষিবিদ মো. মজিবর রহমান জানান, “জিংকস্বল্পতা দূর করতে খাদ্যশস্যে জিংক সমৃদ্ধ জাতের চাষ বাড়ানো জরুরি। কৃষকদের সহযোগিতা থাকলে এই উদ্যোগ আরও ভালো ফল দেবে”—এ কথা তিনি দৈনিক জাতীয় সংবাদকে বলেন।
বক্তব্য দেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মারুফা খাতুন, ওয়ার্ল্ড ভিশনের প্রজেক্ট অফিসার, ইএসডিওর রিঅ্যাক্টস-ইন প্রকল্পের ফোকাল কৃষিবিদ মো. আশরাফুল আলম এবং প্রজেক্ট অফিসার মো. আবু তালহা শিশির। অনুষ্ঠানে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
প্রশিক্ষণে মানবদেহে জিংকের ভূমিকা, ঘাটতির লক্ষণ, ঘাটতি পূরণের উপায়সহ জিংকসমৃদ্ধ ধান ও গমের বিভিন্ন জাত এবং প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়। কৃষকেরা জানান, জিংকধান ও গম সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে তাঁরা মাঠে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করবেন। কয়েকজন অংশগ্রহণকারী দৈনিক জাতীয় সংবাদকে জানান, পুষ্টিগুণ ও উৎপাদন সম্ভাবনা তাঁদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে।
অনুষ্ঠানে ২৩৭ জন কৃষকের মধ্যে জনপ্রতি ৪ কেজি করে মোট ৮৪৮ কেজি ব্রি ধান-১০২ জাতের ভিত্তি বীজ বিতরণ করা হয়।
রিঅ্যাক্টস-ইন প্রকল্পটি কানাডা সরকারের অর্থায়নে বাংলাদেশসহ চারটি দেশে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ওয়ার্ল্ড ভিশন, হারভেস্টপ্লাস, নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনাল ও ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কনসোর্টিয়াম সহযোগিতায় ঠাকুরগাঁওয়ে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনা করছে ইএসডিও। বর্তমানে দেশে আমন মৌসুমে ব্রি ধান ৭২ ও বিনা ধান ২০ এবং বোরো মৌসুমে ব্রি ধান ৭৪, ৮৪, ১০০ ও ১০২ জাতের জিংকসমৃদ্ধ ধানের আবাদ ক্রমেই বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

0 Comments