খুলনায় যুক্তফ্রন্টের দুর্বল অবস্থান, দুই আসনে প্রার্থীহীনতা ও সিদ্ধান্তহীনতায় কর্মীরা
খুলনা প্রতিনিধি | বাংলাদেশ জাতীয় সংবাদ (BNN)
বাম ঘরানার নির্বাচনী জোট গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খুলনায় শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে পারেনি। নির্বাচন ও গণভোটের আর এক মাসেরও কম সময় বাকি থাকলেও খুলনা-২ ও খুলনা-৪ আসনে প্রার্থী দিতে না পারা এবং ভোট ও গণভোট বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না থাকায় জোটের শরিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গঠিত যুক্তফ্রন্ট মব পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা এবং জুলাই সনদের কিছু বিষয়ে একমত থাকলেও সনদে স্বাক্ষর না করায় শুরু থেকেই জোটের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন ছিল। খুলনার কয়েকটি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে ব্যর্থ হওয়ায় সেই সংকট আরও স্পষ্ট হয়েছে।
খুলনা অঞ্চলে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগে খুলনা-২ আসনে সিপিবির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্সকে প্রার্থী হিসেবে সামনে রাখা হয়েছিল। তবে দলের জাতীয় কংগ্রেসের পর সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিনিধির সমর্থন না থাকায় তিনি পুনরায় দায়িত্বে ফিরতে পারেননি। এরপর ওই আসনে সদর থানার সভাপতির নাম আলোচনায় এলেও তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেননি। ফলে শেষ পর্যন্ত খুলনা-২ আসনে যুক্তফ্রন্ট কোনো প্রার্থী দিতে পারেনি।
এবারের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে খুলনা-১ আসনে সিপিবির কিশোর কুমার রায়, খুলনা-৩ আসনে বাসদের জনাদ্দন দত্ত নান্টু, খুলনা-৫ আসনে অ্যাডভোকেট চিত্ত রঞ্জন গোলদার এবং খুলনা-৬ আসনে প্রশান্ত কুমার মন্ডল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। খুলনা-২ ও খুলনা-৪ আসনে জোটের কোনো প্রার্থী নেই। এর মধ্যে খুলনা-১ ও খুলনা-৩ আসনে প্রার্থীরা তুলনামূলকভাবে সক্রিয় রয়েছেন এবং ২২ জানুয়ারি থেকে জোটের ২১ দফা ইশতাহার নিয়ে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছেন।
যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতাহারে যুদ্ধাপরাধ কিংবা ২০২৪ সালের গণহত্যার বিচার প্রসঙ্গ স্থান পায়নি। দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা, বন্ধ পাটকল চালু করা কিংবা সংস্কার বিষয়ে স্পষ্ট কোনো অবস্থানও উল্লেখ করা হয়নি। তবে সুন্দরবন ও রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরোধিতায় আগের অবস্থান বজায় রেখে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন, বনাঞ্চলে শিল্পপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ এবং সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধের দাবি তুলে ধরা হয়েছে। একটি প্রচারপত্রে জুলাই সনদের নামে ক্ষমতার অপব্যবহার ও রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের অভিযোগ তুলে দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
খুলনা-২ আসনে প্রার্থী না দেওয়ার বিষয়ে জেলা সিপিবির সভাপতি এস এ রশিদ বলেন, এ আসনে প্রার্থী দেওয়া সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি ওই আসনে ভোটদান ও গণভোটে অংশগ্রহণের প্রশ্নে শরিক দলের নেতাকর্মীদের জন্য এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান তিনি।
সার্বিকভাবে খুলনায় যুক্তফ্রন্টের সীমিত প্রার্থী, অস্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান এবং সিদ্ধান্তহীনতা আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটে জোটটির প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।

0 Comments