ডেস্ক রিপোর্ট | বাংলাদেশ জাতীয় সংবাদ (BNN)
দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী থাকায় বাজার থেকে ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেলেও এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) বিল পরিশোধের কারণে সাময়িকভাবে কিছুটা কমেছে রিজার্ভের পরিমাণ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) আকুর নভেম্বর–ডিসেম্বর সময়ের জন্য প্রায় ১৫৪ কোটি ডলার পরিশোধের পর দেশের গ্রস রিজার্ভ কমে দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভ বর্তমানে ২৭ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার।
বিজ্ঞাপন
আকুর দায় শোধের আগে দেশের গ্রস রিজার্ভ বেড়ে ৩৩ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। একই সময়ে বিপিএম৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২৯ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার। ২০২৩ সালের জুনে বিপিএম৬ অনুযায়ী হিসাব প্রকাশ শুরুর সময় রিজার্ভ ছিল ২৪ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার, যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, বর্তমান বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভ তিন বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। নিয়মিত আকু পরিশোধ সত্ত্বেও রিজার্ভের এই স্থিতিশীলতা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রিজার্ভ ছিল ২০২১ সালের আগস্টে, যা প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। তবে পরবর্তী সময়ে ব্যাপক ডলার বিক্রির কারণে রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে এবং আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগে তা নেমে আসে ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থপাচার রোধে কড়াকড়ি আরোপ এবং হুন্ডি দমন জোরদার করায় বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে, যা ধীরে ধীরে শক্ত অবস্থান তৈরি করছে।

0 Comments