Ticker

6/recent/ticker-posts

জীবননগরে সেনা অভিযানে আটক বিএনপি নেতা ডাবলুর মৃত্যু, তদন্তের দাবি ও বিক্ষোভ

জীবননগরে সেনা অভিযানে আটক বিএনপি নেতা ডাবলুর মৃত্যু, তদন্তের দাবি ও বিক্ষোভ
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি | বাংলাদেশ জাতীয় সংবাদ (BNN)

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সেনাবাহিনীর অভিযানে আটক হওয়ার পর বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান ডাবলু (৫২) মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং মৃত্যুর কারণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী, বিএনপি নেতা-কর্মী ও পুলিশ সূত্র জানায়, গত সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেনাবাহিনীর একটি দল জীবননগর পৌর এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘হাফিজা ফার্মেসি’ থেকে শামসুজ্জামান ডাবলুকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

আজ মঙ্গলবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল আমীনের উপস্থিতিতে জীবননগর থানার পুলিশ মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করে। এদিকে আটক ও মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা গভীর রাতেই রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। হাসপাতালের সামনে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে তাঁরা মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান।

জেলা বিএনপির সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, অভিযানের নামে বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে এবং সেই নির্যাতনের ফলেই শামসুজ্জামান ডাবলুর মৃত্যু হয়েছে। তিনি জানান, বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করা হয়েছে এবং লিখিত অভিযোগসহ রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে।

সকাল ১০টা পর্যন্ত মরদেহ জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা ছিল। হাসপাতালের ফটকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নেওয়ায় রোগী ও তাঁদের স্বজন ছাড়া অন্যদের প্রবেশ সীমিত ছিল। স্থানীয় প্রশাসন ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে নিতে চাইলে বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা বাধা দেন। তাঁদের দাবি, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দোষীদের শাস্তির নিশ্চয়তা না দিলে মরদেহ সরাতে দেওয়া হবে না।

জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে অভিযানের সময় জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে শামসুজ্জামান শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়। অন্যদিকে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, সেনাবাহিনীর প্রাথমিক তথ্যমতে তিনি হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। তবে সাধারণ মানুষের দাবি হত্যাকাণ্ডের দিকে ইঙ্গিত করছে। ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

Post a Comment

0 Comments

×
×