চট্টগ্রাম প্রতিনিধি | বাংলাদেশ জাতীয় সংবাদ (BNN)
চট্টগ্রাম বন্দরকেন্দ্রিক গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন চট্টগ্রাম-১১ এবারও জাতীয় রাজনীতির বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে মুখোমুখি হচ্ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং জামায়াতে ইসলামীর সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ শফিউল আলম।
চট্টগ্রাম-১১ আসনটি দেশের অর্থনীতির জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রাম বন্দর, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ইপিজেড, কর্ণফুলী নদীর মোহনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর স্থাপনা, তেল শোধনাগারসহ একাধিক রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এই আসনের অন্তর্ভুক্ত। ফলে আমদানি-রফতানি, শিল্প ও বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি সবসময়ই এই আসনের দিকে থাকে।
এই আসন থেকে একসময় নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। পরবর্তীতে দীর্ঘদিন ধরে এখানকার রাজনীতিতে প্রভাবশালী অবস্থানে ছিলেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারে বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এ কারণে চট্টগ্রাম-১১ অনেকের কাছেই ‘খসরুর নিজস্ব আসন’ হিসেবে পরিচিত।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিএনপি এই আসনে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে প্রার্থী করেছে। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই তিনি জোরালো প্রচারে নেমেছেন। প্রচলিত সভা-সমাবেশের পাশাপাশি তিনি সরাসরি অলিগলি, বস্তি, কলোনি ও বাজারে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে দেখা করছেন। পরিবারের সদস্যরাও তার নির্বাচনী প্রচারে সক্রিয় রয়েছেন। বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, দীর্ঘ সময় পর ভোটের পরিবেশ ফিরতে থাকায় ধানের শীষের পক্ষে জনসমর্থন বাড়ছে।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ শফিউল আলম প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেরিন সায়েন্সে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী শফিউল আলম ছাত্রজীবন থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত। তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ছিলেন।
প্রচারে প্রতিহিংসামুক্ত রাজনীতি, সহাবস্থান ও স্থানীয় সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন জামায়াত প্রার্থী। যানজট ও জলাবদ্ধতা নিরসন, সরকারি হাসপাতাল স্থাপন, গণকবর ও গণশ্মশানের ব্যবস্থা এবং চাঁদাবাজি বন্ধের অঙ্গীকার তুলে ধরছেন তিনি। তার বক্তব্যে রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে এসে সবাইকে নিয়ে এলাকার উন্নয়নের কথা গুরুত্ব পাচ্ছে।
চট্টগ্রাম-১১ আসনে মোট ভোটার পাঁচ লাখের বেশি। শিল্পাঞ্চল ও ইপিজেড থাকায় এখানে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শ্রমজীবী ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি সংখ্যালঘু ভোটারের উপস্থিতিও এই আসনের নির্বাচনী হিসাবকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
মোট সাতজন প্রার্থী থাকলেও মূল লড়াইটি বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। জাতীয় পার্টি, বাসদ ও ইসলামিক ফ্রন্টের প্রার্থীরাও মাঠে থাকলেও ভোটের ফল নির্ধারণে এই দুই প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতাই সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম-১১ আসনে সাবেক মন্ত্রী ও অভিজ্ঞ রাজনীতিক বনাম উদীয়মান নেতা ও সাবেক কাউন্সিলরের এই লড়াই শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে ভোটারদের মধ্যে।

0 Comments