যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজের বিশাল বহর ইরানের দিকে, বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা
ডেস্ক রিপোর্ট | বাংলাদেশ জাতীয় সংবাদ (BNN)যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে নিবিড়ভাবে নজরে রাখতে দেশটির উপকূলের দিকে একটি বড় যুদ্ধজাহাজ বহর পাঠিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
গত বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলন শেষে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের উদ্দেশে একটি ‘আর্মাদা’ পাঠানো হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ। প্রয়োজনে এই বহর ব্যবহৃত হতে পারে, যদিও এমন কিছু ঘটবে কি না, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি।
ট্রাম্প প্রশাসনের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে জানিয়েছেন, যুদ্ধবিমান বহনকারী রণতরি ইউএসএস আব্রাহামসহ বেশ কয়েকটি গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্রবিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ ইতোমধ্যে ইরানের দিকে রওনা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই বহর ইরানের উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অদূর ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে— এমন আশঙ্কা থেকেই আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এ যুদ্ধজাহাজ বহর মোতায়েন করা হচ্ছে। বহরের সঙ্গে উন্নত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ছাড়াও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও বিস্ফোরক পাঠানো হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহেই এশিয়া-প্রশান্ত অঞ্চল থেকে যুদ্ধজাহাজগুলোর এই বহর ইরানের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। এটি সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় সামরিক প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক দ্রুত অবনতি ঘটে। গত বছরের জুনে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের ঘটনাও ঘটে। একই বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হলে ট্রাম্প কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন এবং দমন-পীড়ন চললে সামরিক অভিযানের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন।
যদিও শেষ পর্যন্ত সামরিক অভিযান হয়নি, তবে যুদ্ধজাহাজের বিশাল বহর পাঠানোর সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকদের একটি অংশ। তাঁদের মতে, এ পদক্ষেপ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান অস্থির পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
সূত্র : রয়টার্স

0 Comments