নিজস্ব প্রতিনিধি
আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হলেই পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রমে তিনি নিজেকে অবমূল্যায়িত মনে করছেন এবং আর দায়িত্বে থাকতে আগ্রহী নন।
রাষ্ট্রপতির ভাষ্য অনুযায়ী, নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হয়নি। তিনি জানান, প্রায় সাত মাস ধরে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তার কোনও আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি। এছাড়া রাষ্ট্রপতির প্রেস বিভাগ প্রত্যাহার করা, বিদেশি মিশনগুলো থেকে তার প্রতিকৃতি সরিয়ে ফেলা—এসব ঘটনাকে তিনি অসম্মানজনক বলে উল্লেখ করেন।
এক পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, “আমি দায়িত্ব ছাড়ার জন্য প্রস্তুত। নির্বাচন শেষ হওয়া পর্যন্ত সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় অবস্থান ধরে রেখেছি।”
রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতিকৃতি অপসারণের পর রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে প্রধান উপদেষ্টাকে চিঠি পাঠানো হলেও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। তাদের দাবি, সরকারি সিদ্ধান্তগুলোতে রাষ্ট্রপতির অবস্থান গুরুত্ব পাচ্ছে না, যা পরিস্থিতিকে আরও অস্বস্তিকর করে তুলেছে।
অন্যদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মন্তব্যের অনুরোধে বলেন, “রাষ্ট্রপতি পদ সাংবিধানিকভাবে স্বাধীন। সরকারের কোনও সিদ্ধান্ত তাকে অসম্মান করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়নি। পরিস্থিতি ভুল বোঝাবুঝি হয়তো দূর হবে।”
এছাড়া রাষ্ট্রপতি জানান, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। সেনাপ্রধান তাকে স্পষ্ট করেছেন যে রাজনৈতিক ক্ষমতায় হস্তক্ষেপের কোনও পরিকল্পনা সেনাবাহিনীর নেই। আন্দোলনের সময় সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও রাষ্ট্রপতির মতে, “জেনারেল জামান গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দিতে চান।”
রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে কোনও প্রধান রাজনৈতিক দল তার পদত্যাগ দাবি করেনি। তবে নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি যে দ্রুত পাল্টাতে পারে, তা তারা উড়িয়ে দিচ্ছেন না।
নির্বাচনপূর্ব জরিপে দেখা যাচ্ছে, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট আগামী সরকার গঠনের সম্ভাবনায় এগিয়ে আছে। দীর্ঘ দুই দশক ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর তিনি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন কি না—এ প্রশ্নে সাহাবুদ্দিন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দলনিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

0 Comments