Ticker

6/recent/ticker-posts

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে কড়া তালা: ফিলিস্তিনি পাসপোর্টসহ ৭ দেশের নাগরিকদের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে কড়া তালা: ফিলিস্তিনি পাসপোর্টসহ ৭ দেশের নাগরিকদের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা


নিজস্ব প্রতিনিধি

ফিলিস্তিনি পাসপোর্টধারী এবং আরও সাতটি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও কার্যালয় হোয়াইট হাউস থেকে গতকাল দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর স্ক্রিনিং, যাচাই-বাছাই এবং তথ্য বিনিময় ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর ঘাটতি বিদ্যমান। জাতীয় ও জননিরাপত্তার সম্ভাব্য হুমকি বিবেচনায় নিয়েই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলো হলো বুরকিনা ফাসো, মালি, নাইজার, দক্ষিণ সুদান, সিয়েরা লিওন, লাওস এবং সিরিয়া। এর পাশাপাশি ফিলিস্তিনি পাসপোর্টধারীদের ক্ষেত্রেও একই বিধিনিষেধ কার্যকর হবে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে নাগরিকদের পরিচয় ও নিরাপত্তা যাচাই নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। যেসব দেশের প্রশাসনিক সক্ষমতা এই মানদণ্ড পূরণ করতে পারছে না, সেসব দেশের ক্ষেত্রে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।

এর আগে গত নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ১৯টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন সংক্রান্ত সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওই তালিকায় আফগানিস্তান, ইরান, সোমালিয়া, সুদান, ইয়েমেনসহ একাধিক দেশ ছিল। পরে গত ৪ ডিসেম্বর দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টি নোম ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, নিষেধাজ্ঞার তালিকা বাড়িয়ে অন্তত ৩২টি দেশে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডি সমুদ্রসৈকতে ভয়াবহ বন্দুক হামলায় ১৫ জন ইহুদি নিহত হওয়ার ঘটনার পর ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও কঠোর হওয়া অপ্রত্যাশিত নয়। ওয়াশিংটনভিত্তিক এক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বলেন, এসব হামলা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

তবে সিরিয়ার নাগরিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির সিদ্ধান্ত কিছুটা বিস্ময় তৈরি করেছে। কারণ অল্প কিছুদিন আগেই সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ শারা হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই সফরের আগে শারার বিরুদ্ধে থাকা মার্কিন নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সিরিয়ায় আইএসের হামলায় দুই মার্কিন সেনা ও একজন দোভাষী নিহত হওয়ার ঘটনা প্রশাসনকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। এই হামলাকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই ‘ভয়াবহ’ বলে উল্লেখ করেছিলেন এবং কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ ও অভ্যন্তরীণ সংঘাত কাটিয়ে উঠলেও সিরিয়ায় এখনও এমন কার্যকর কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ গড়ে ওঠেনি, যারা নির্ভরযোগ্যভাবে পাসপোর্ট ও নাগরিক নথি ইস্যু করতে পারে। দেশটির যাচাই-বাছাই ব্যবস্থার দুর্বলতাই এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ।

এদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছে, এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব সাধারণ নাগরিকদের ওপর পড়বে। তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

Post a Comment

0 Comments

×
×