নিজস্ব প্রতিনিধি
সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের কাদুগলি লজিস্টিক বেসে সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর ড্রোন হামলায় ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে পরপর কয়েকটি ড্রোন বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও আটজন আহত হন। নিহতরা সবাই দায়িত্বপালনের সময় হামলার মুখে পড়েন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জানিয়েছে, নিহতরা হলেন কর্পোরাল মোঃ মাসুদ রানা (এএসসি), সৈনিক মোঃ মমিনুল ইসলাম, সৈনিক শামীম রেজা, সৈনিক শান্ত মন্ডল, মেস ওয়েটার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং লন্ড্রি কর্মচারী মোঃ সবুজ মিয়া।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল খোন্দকার খালেকুজ্জামান, সার্জেন্ট মোস্তাকিম হোসেন, কর্পোরাল আফরোজা পারভিন ইতি, ল্যান্স কর্পোরাল মহিবুল ইসলাম, সৈনিক মেজবাউল কবির, সৈনিক উম্মে হানি আক্তার, সৈনিক চুমকি আক্তার এবং সৈনিক মোঃ মানাজির আহসান।
শান্তিরক্ষা মিশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলার সময় ঘাঁটির একটি অংশে হঠাৎ ধারাবাহিক বিস্ফোরণ শুরু হয়। ড্রোনগুলো নিচু উচ্চতায় উড়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে। ঘটনার পর দ্রুত সবাইকে আশ্রয়স্থলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হেলিকপ্টারযোগে উন্নত চিকিৎসার জন্য সরিয়ে নেওয়া হয়।
দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ জানায়, আহতদের মধ্যে সৈনিক মেজবাউল কবিরের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। তার জরুরি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে এবং তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। বাকিরা শঙ্কামুক্ত।
জাতিসংঘ মিশনের একজন মুখপাত্র বলেন, “এ হামলা পরিকল্পিত ছিল এবং শান্তিরক্ষীদের ভয় দেখানোই এর উদ্দেশ্য। আমরা ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি।”
ঢাকা থেকে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ হামলা বর্বরতা ছাড়া কিছু নয়। তারা জানান, “বাংলাদেশ শান্তিরক্ষীরা সবসময় মানবিকতা ও আন্তর্জাতিক শান্তির জন্য কাজ করে এসেছে। তাদের আত্মত্যাগ দেশের জন্য গৌরবের।”
সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।



0 Comments