নিজস্ব প্রতিনিধি | বাংলাদেশ জাতীয় সংবাদ (BNN)
ঢাকা: জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোট থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বেরিয়ে যাওয়ার পর আসন বণ্টন নিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। চরমোনাই পীরের দলটির জন্য বরাদ্দকৃত ৪৪টি আসন এখন নিজেদের অনুকূলে পেতে জামায়াতের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে জোটে থাকা অন্য দুই শরিক দল ন্যাশনালিস্ট সিভিক পার্টি (এনসিপি) এবং মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।
দলীয় সূত্র মতে, এনসিপিকে ইতিমধ্যে ৩০টি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ২০টি আসন ছেড়ে দিতে রাজি হয়েছে জামায়াত। তবে ইসলামী আন্দোলন জোট ত্যাগের পর এই সংখ্যা আরও বাড়ানোর দাবি তুলেছে দল দুটি। এনসিপি ইতিমধ্যে ৪৪টি আসনে তাদের প্রার্থী দিলেও বর্তমানে তারা আরও ১০টি অতিরিক্ত আসন চাইছে। দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য মনিরা শারমিন জানিয়েছেন, ৩০টি আসন নিশ্চিত হলেও অবশিষ্ট আসনগুলো নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে, ৯৪টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে বর্তমানে ১৬টি আসনে জোটের সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। তবে দলটির যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিনের দাবি, ইসলামী আন্দোলন জোটে না থাকায় বেশ কিছু আসন শূন্য হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে তারা অন্তত ২৫টি আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং আরও অন্তত পাঁচটি আসনে 'রিকশা' প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিশ্চিত করতে চান।
উল্লেখ্য, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন ও সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনসহ ৫ দফা দাবিতে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন ও খেলাফত মজলিসসহ আটটি দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। পরবর্তীতে এনসিপি ও এলডিপির মতো দলগুলো এই জোটে যোগ দিলে আসন ভাগাভাগি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। ইসলামী আন্দোলন শুরুতে ৭০টি আসন দাবি করলেও জামায়াত ৪৪টি দিতে রাজি হয়। কিন্তু পছন্দের আসন না পাওয়ায় গত শুক্রবার জোট ছাড়ার ঘোষণা দেয় চরমোনাই পীরের দল।
বর্তমানে ইসলামী আন্দোলনের জন্য ছেড়ে রাখা ওই ৪৪টি আসনে জামায়াত নিজস্ব প্রার্থী দেওয়ার চিন্তা করলেও শরিক দলগুলোর বাড়তি আসনের দাবি জোটের অভ্যন্তরে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শীঘ্রই এই আসনগুলোর চূড়ান্ত ফয়সালা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

0 Comments