Ticker

6/recent/ticker-posts

এনসিপিতে ভাঙন তীব্র: ১৪ কেন্দ্রীয় নেতার পদত্যাগ, নিষ্ক্রিয় হচ্ছেন আরও অনেকে

এনসিপিতে ভাঙন তীব্র: ১৪ কেন্দ্রীয় নেতার পদত্যাগ, নিষ্ক্রিয় হচ্ছেন আরও অনেকে
ঢাকা প্রতিনিধি
এনসিপিতে (ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি) অভ্যন্তরীণ সংকট ক্রমেই প্রকাশ্য রূপ নিচ্ছে। দলটির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সমঝোতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষের জেরে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪ জন কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করেছেন। পাশাপাশি, পদত্যাগ না করেও কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ের অনেক নেতা-কর্মী দলীয় কার্যক্রম থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিচ্ছেন।

দলের একাধিক নেতা অভিযোগ করেছেন, জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দলের ‘বিশেষ’ দুই শীর্ষ নেতার প্রভাবই মুখ্য ছিল। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের অধিকাংশ নেতাকে উপেক্ষা করা হয়েছে বলে তাদের দাবি। এ পরিস্থিতিতে অনেকে নিজেদের রাজনৈতিক বিশ্বাস ও দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। শুক্রবার এনসিপির শীর্ষস্থানীয় এক নেত্রী যুগান্তরকে জানান, তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ না করলেও ইতোমধ্যে দলের সব ধরনের কার্যক্রম থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, তার পদত্যাগ হলে কেন্দ্রীয়, বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের নারী নেতৃত্বের বড় একটি অংশ একযোগে পদত্যাগ করতে পারেন।

বিজ্ঞাপন

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে পদত্যাগ করা কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে রয়েছেন ডা. তাসনিম জারা, তাজনূভা জাবীন, ফারহাদ আলম ভূঁইয়া, আরিফ সোহেল, আজাদ খান ভাসানী, আসিফ নেহাল, মীর হাবিব আল মানজুর, মারজুক আহমেদ, মীর আরশাদুল হক, খালেদ সাইফুল্লাহ, খান মো. মুরসালীন, মুশফিক উস সালেহীন, ওয়াহিদুজ্জামান ও আল আমিন টুটুল। এছাড়া বিভিন্ন আসনে ঘোষিত ও সম্ভাব্য কয়েকজন প্রার্থীও দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

ডা. তাসনিম জারা ও তাজনূভা জাবীনের পদত্যাগের বিষয়ে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ২৮ ডিসেম্বর দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘কেউ দলে থাকবে কিনা বা নির্বাচন করবে কিনা, সেটা তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।’ তার এই বক্তব্যের পর এনসিপি থেকে আরও প্রায় ১০ জন নেতা পদত্যাগ করেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

এর আগে গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মেজর (অব.) আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ও কেন্দ্রীয় সদস্য মেজর (অব.) মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তারা অভিযোগ করেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কিছু সদস্য নিয়মিতভাবে সেনাবাহিনী ও সাবেক সেনা সদস্যদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করেন এবং এ বিষয়ে অবহিত করা হলেও কোনো সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, নতুনভাবে গড়ে ওঠা একটি দলের জন্য ধারাবাহিক পদত্যাগ ও নিষ্ক্রিয়তা বড় ধরনের সাংগঠনিক ক্ষতি। তিনি জানান, এনসিপি নেতৃত্ব দাবি করছে জামায়াতের সঙ্গে জোট কেবল নির্বাচনি সমঝোতা, আদর্শিক নয়। তবে এই ব্যাখ্যায় আস্থা রাখতে পারছেন না অনেক নেতা। বিশেষ করে নারী নেতৃত্বের একটি বড় অংশ এই ইস্যুতে দূরে সরে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে দলটির সাংগঠনিক শক্তিকে দুর্বল করে দিতে পারে।

Post a Comment

0 Comments

×
×