বাংলাদেশ জাতীয় সংবাদ (BNN)
ঢাকা প্রতিনিধি
দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) পুনরুজ্জীবনের প্রয়োজনীয়তার ওপর আবারও জোর দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় একাধিক আঞ্চলিক নেতার উপস্থিতি প্রমাণ করে সার্কের চেতনা এখনও সক্রিয় রয়েছে।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় আসা দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।
বিজ্ঞাপন
প্রেস সচিব জানান, জানাজায় পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক, ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিয়নপো ডি. এন. ধুংগেল, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্কর, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা, শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও পর্যটনমন্ত্রী বিজিতা হেরাথ এবং মালদ্বীপের উচ্চশিক্ষা, শ্রম ও দক্ষতা উন্নয়নমন্ত্রী ড. আলী হায়দার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
জানাজার দিন পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক এবং নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরদিন বৃহস্পতিবার বিকেলে মালদ্বীপের মন্ত্রী ড. আলী হায়দার আহমেদ ও শ্রীলঙ্কার মন্ত্রী বিজিতা হেরাথও অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এসব বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা আঞ্চলিক নেতাদের কাছে সার্ককে যে কোনো উপায়ে পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আঞ্চলিক নেতাদের একত্রিত হওয়া সার্কের চেতনার অস্তিত্বের স্পষ্ট উদাহরণ। অধ্যাপক ইউনূস আরও বলেন, সার্কের চেতনা আজও বহাল রয়েছে এবং তা সংরক্ষণ করা জরুরি। এমনকি সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য হলেও সার্ক নেতাদের একত্রিত করার উদ্যোগ নেওয়ার ইচ্ছার কথাও তিনি জানান।
বৈঠকগুলোতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধান উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। নির্বাচন শেষে তিনি তার পূর্বের পেশাগত ভূমিকায় ফিরে যাবেন বলেও পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকারকে অবহিত করেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো বিদেশে বসবাসকারী ও কর্মরত প্রায় সাত লাখ বাংলাদেশি পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধন করেছেন।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, সফররত বিদেশি প্রতিনিধিরা বেগম খালেদা জিয়ার জানাজার ব্যাপকতা, শৃঙ্খলা ও মর্যাদায় গভীরভাবে অভিভূত হয়েছেন। তারা জানান, এত বড় পরিসরে এবং সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠিত জানাজা তারা আগে কখনও প্রত্যক্ষ করেননি।

0 Comments