Ticker

6/recent/ticker-posts

ওয়াশিংটনের বিবেচনায় ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের ছয় সামরিক বিকল্প

ওয়াশিংটনের বিবেচনায় ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের ছয় সামরিক বিকল্প
ডেস্ক রিপোর্ট | বাংলাদেশ জাতীয় সংবাদ (BNN)

ইরানকে লক্ষ্য করে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে আলোচনা জোরালো হচ্ছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি শেষ পর্যন্ত সামরিক অভিযানের অনুমোদন দেন, তাহলে ওয়াশিংটনের সামনে একাধিক কৌশলগত বিকল্প খোলা থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলো সরাসরি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দিকে না গিয়েও ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্য নিয়ে পরিকল্পিত হতে পারে। মার্কিন নীতিনির্ধারকদের আলোচনায় থাকা বিকল্পগুলোর মধ্যে প্রথমেই রয়েছে আঞ্চলিক ঘাঁটি থেকে বিমান হামলা। মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন বি-৫২ বোমারু বিমান ও আধুনিক যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় নির্ভুল আঘাত হানার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে।

দ্বিতীয় বিকল্প হিসেবে বিবেচনায় আছে নৌঘাঁটি থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। পারস্য উপসাগরে অবস্থানরত বিমানবাহী রণতরী, ডেস্ট্রয়ার বা সাবমেরিন থেকে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরানের সামরিক ও কৌশলগত অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। এ ধরনের হামলা তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিতে পরিচালনা করা সম্ভব বলে মনে করা হয়।

তৃতীয় পথ হিসেবে ড্রোনভিত্তিক যুদ্ধের কথা বলা হচ্ছে। সশস্ত্র ড্রোন ব্যবহার করে উচ্চ মানের লক্ষ্যবস্তু, বিশেষ করে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট সামরিক ইউনিটগুলোর স্থাপনায় নিখুঁত হামলা চালানো হতে পারে, যা সীমিত পরিসরে কার্যকর ফল দিতে পারে।

চতুর্থ বিকল্প হলো সাইবার যুদ্ধ। মার্কিন সাইবার অভিযান ইরানের কমান্ড ও কন্ট্রোল ব্যবস্থা, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং সামরিক সমন্বয় ব্যবস্থাকে অচল করে দিতে পারে। এতে তেহরানের প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত হয়ে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পঞ্চম বিকল্প হিসেবে আলোচনায় রয়েছে গোপন বিশেষ বাহিনী অভিযান। এলিট বিশেষ বাহিনী পাঠিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বা কৌশলগত স্থাপনায় নাশকতামূলক কার্যক্রম চালানো হতে পারে, যা সরাসরি বড় আকারের সামরিক সংঘাতে না গিয়েও ইরানের সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

সবশেষে রয়েছে দীর্ঘপাল্লার হামলার বিকল্প। দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র বা পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হানার বিষয়টিও বিবেচনায় আছে। লক্ষ্য হবে ইরানের সামরিক শক্তিকে আরও দুর্বল করা এবং ভবিষ্যৎ হুমকি কমিয়ে আনা।

এই ছয়টি পথই কৌশলগতভাবে ভিন্ন মাত্রার ঝুঁকি ও প্রভাব বহন করে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক চাপের ওপর নির্ভর করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Post a Comment

0 Comments

×
×