নিজস্ব প্রতিনিধি
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর রেজিস্ট্রারের দপ্তরে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষে বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম জানান, প্রাথমিক তদন্ত ও সংগৃহীত প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।
প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন ও সংগঠিত সহিংসতার ঘটনায় অভিযুক্তদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততার তথ্য-প্রমাণ অভিযোগপত্রে তুলে ধরা হয়েছে। এসব অপরাধ আন্তর্জাতিক আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ দাখিলের পর নিয়ম অনুযায়ী বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে এবং পরবর্তী তারিখে শুনানির সময় নির্ধারণ করা হবে।
এদিকে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, সে সময় রাষ্ট্রীয় শক্তির সহায়তায় সংগঠিত হামলা ও দমন-পীড়ন চালানো হয়েছিল। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার শুরু হওয়ায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে ন্যায়বিচারের আশা তৈরি হয়েছে।
মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট এক দায়িত্বশীল ব্যক্তি জানান, এই অভিযোগ দাখিল দেশের বিচারব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা না গেলে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
প্রসিকিউশন পক্ষ আশা প্রকাশ করেছে, ট্রাইব্যুনালে ন্যায়সঙ্গত বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত অপরাধের দায় নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

0 Comments