নিজস্ব প্রতিনিধি
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের তাৎক্ষণিক সূচক অনুযায়ী আজ সকাল সাড়ে আটটার দিকে রাজধানী ঢাকার বায়ুমান ছিল ১৯৬, যা অস্বাস্থ্যকর হিসেবে চিহ্নিত। তবে আজ ঢাকার তুলনায় খুলনা বিভাগের বাতাসের মান ছিল আরও বেশি উদ্বেগজনক।
আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, আজ দেশের আটটি বিভাগীয় শহরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দূষণ ছিল খুলনায়। সেখানে বায়ুমান সূচক রেকর্ড করা হয়েছে ২৮০, যা খুব অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে পড়ে। এরপর রাজশাহীতে বায়ুমান ছিল ১৮৬, রংপুরে ১৬৯, ময়মনসিংহে ১৫৪, বরিশালে ১২১, চট্টগ্রামে ৯৭ এবং সিলেটে ৬৬। বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে মাত্র দুটি শহরের বায়ুর মান তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল, বাকিগুলোতে বাতাসের মান অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় রয়েছে।
আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, বায়ুমান ২০০-এর বেশি হলে সেটিকে খুব অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০০ ছাড়ালে দুর্যোগপূর্ণ হিসেবে ধরা হয়। এই হিসাবে খুলনার পরিস্থিতি জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাতেও আজ সকালে বায়ুদূষণের মাত্রা ছিল আশঙ্কাজনক। ঢাকার পাঁচটি স্থানে বায়ুমান খুব অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে পৌঁছায়। এর মধ্যে মিরপুরের ইস্টার্ন হাউজিং এলাকায় বায়ুমান ছিল ২৫৮, দক্ষিণ পল্লবীতে ২৩৯, কল্যাণপুরে ২১৮, বেচারাম দেউড়িতে ২১৩ এবং বে’জ এজ ওয়াটার এলাকায় ২০৫।
পরিবেশ অধিদপ্তরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, শীত মৌসুমে নির্মাণকাজ, ইটভাটা ও যানবাহনের ধোঁয়ার কারণে বায়ুদূষণ দ্রুত বাড়ে। নিয়মিত অভিযান ও নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও বাস্তব পরিস্থিতিতে কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হচ্ছে না। তিনি সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন।
ঢাকার মিরপুর এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, কয়েকদিন ধরে চোখ জ্বালা করছে এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। বাইরে বের হলে ধোঁয়াশার মতো বাতাস অনুভব করছি। মাস্ক ছাড়া বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
চলতি ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকেই ঢাকার বায়ুমান প্রতিদিনই খুব অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় রয়েছে। এর আগে গত ২৮ নভেম্বর রাজধানীর বায়ুমান দুর্যোগপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। চলতি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে ধারাবাহিকভাবে ঢাকা বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় শীর্ষের দিকে অবস্থান করছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আইকিউএয়ারের পক্ষ থেকে জনসাধারণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার, খোলা জায়গায় ব্যায়াম এড়িয়ে চলা এবং ঘরের জানালা যতটা সম্ভব বন্ধ রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

0 Comments