নিজস্ব প্রতিনিধি
সদ্য ঘোষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলকে অগ্রহণযোগ্য বলে জানিয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ। দলটির দাবি, নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ভোট আয়োজন ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।
দলটির পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশের বৃহৎ অংশের প্রতিনিধিত্বকে বাদ দিয়ে ঘোষিত তফসিল জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন নয়। তারা জানিয়েছে, বর্তমান ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা নেই এবং সংলাপ ছাড়া গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হবে না।
দলের একাধিক নেতা, যারা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন, মন্তব্য করেছেন যে ফেব্রুয়ারির ভোট একটি অনির্বাচিত সরকারের অধীনে “আইনগত ভিত্তিহীন প্রক্রিয়া” হিসেবে দেখা হবে। তারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক পরিবেশ এখনো স্থিতিশীল হয়নি এবং অংশীদারিত্বমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণা করে জানায়, ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। কমিশনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তফসিল সংবিধান অনুযায়ী ঘোষণা করা হয়েছে এবং নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, নিষিদ্ধ এবং নিবন্ধন স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলেও তাদের অবস্থান রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তারা মনে করেন, দলটির ঘোষণায় নির্বাচনী পরিস্থিতি নতুনভাবে আলোচনায় এসেছে।
এদিকে, প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয় পর্যায়ের কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মী জানান, তফসিল ঘোষণার পর এলাকাভেদে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে নিরপেক্ষ সরকারের দাবিকে যৌক্তিক বলে মনে করছেন, আবার কেউ কেউ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার পক্ষেই মত দিয়েছেন।
আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দেয়নি। তবে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব ইঙ্গিত দিয়েছে, “অংশগ্রহণের সুযোগ না থাকলে জনগণের বিবেচনাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে।”


0 Comments