Ticker

6/recent/ticker-posts

খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নে জ্বালানি তেলের সংকটে বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকেরা

তেলের সংকটে বিপাকে মোটরসাইকেল চালকরা, ঈদের আয় নিয়ে শঙ্কা দক্ষিণ বেদকাশীতে

নিজস্ব প্রতিনিধি | বাংলাদেশ জাতীয় সংবাদ (BNN)

খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নে জ্বালানি তেলের সংকটে বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকেরা। স্থানীয়দের দাবি, এই ইউনিয়নে প্রায় এক হাজার মানুষের জীবিকা সরাসরি মোটরসাইকেল চালনার ওপর নির্ভরশীল হলেও বর্তমানে তেল না পাওয়ায় তাদের আয়ের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রমজান মাসে সাধারণত মোটরসাইকেল ভাড়া তুলনামূলক কম থাকে। তবে ঈদকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মরত মানুষজন নিজ নিজ এলাকায় ফিরে আসতে শুরু করলে ভাড়ার চাহিদা বেড়ে যায়। এ সময়টিকে ঘিরেই মোটরসাইকেল চালকেরা বছরের অন্যতম বড় আয়ের আশা করেন। কিন্তু বর্তমানে তেলের সংকট দেখা দেওয়ায় সেই সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

চালকদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কিছুদিন আগে জ্বালানি তেলের সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি হলেও এখন দেশে তেলের ঘাটতি নেই বলে জানানো হয়েছে। তবু দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে তেলের দোকানগুলোতে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। অনেকের ধারণা, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তেল মজুত করে রাখার কারণে এলাকায় কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আগে ছোট ছোট দোকানে বা ব্যারেলে করে তেল বিক্রি করা হতো। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ দোকানেই তেল নেই। ফলে মোটরসাইকেল চালকদের পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদেরও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

এদিকে সম্প্রতি একটি ঘটনায় দেখা গেছে, বাইরের এলাকা থেকে একজন শ্রমিক মোটরসাইকেলে করে দক্ষিণ বেদকাশীতে কাজের উদ্দেশ্যে আসার পথে তেল শেষ হয়ে যায়। এলাকায় কোথাও তেল না পেয়ে শেষ পর্যন্ত তাকে মোটরসাইকেল ঠেলে ফিরে যেতে হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, আতঙ্কে অনেকেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল কিনে মজুত করে রাখছেন। আগে যেখানে একজন ব্যক্তি সামান্য পরিমাণ তেল কিনতেন, এখন অনেকে ট্যাংক ভরে নেওয়ার পাশাপাশি বাড়িতেও অতিরিক্ত তেল জমা রাখছেন। এতে বাজারে কৃত্রিম সংকট আরও বাড়ছে।

এ পরিস্থিতিতে স্থানীয়রা বাইরে থেকে আগতদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তারা পরামর্শ দিয়েছেন, যারা ঈদ উপলক্ষে এলাকায় আসবেন তারা যেন মোটরসাইকেলের ট্যাংক পূর্ণ করে নিয়ে আসেন। অন্যথায় এলাকায় এসে তেল না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়তে পারেন।

স্থানীয় মোটরসাইকেল চালকেরা দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে কৃত্রিম সংকট দূর হয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমে এবং চালকেরা ঈদ মৌসুমে তাদের প্রত্যাশিত আয় করতে পারেন।

Post a Comment

0 Comments

×
×