রামপাল সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত একই পরিবারের ৯ জনের দাফন সম্পন্ন, শোকে স্তব্ধ মোংলা
মোংলা প্রতিনিধি | বাংলাদেশ জাতীয় সংবাদ (BNN)
বাগেরহাটের রামপালের বেলাই ব্রিজ এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বর আহাদুর রহমান, তার বাবা আব্দুল রাজ্জাকসহ একই পরিবারের ৯ জনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) জুমার নামাজের পর মোংলা উপজেলা পরিষদ চত্বর মাঠে জানাজা শেষে তাদের মরদেহ মোংলা ডাক শ্রমিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
জানাজায় মোংলার সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। স্থানীয়দের উপস্থিতিতে শোকাবহ পরিবেশে শেষ বিদায় জানানো হয় দুর্ঘটনায় নিহতদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি নেতা আব্দুল রাজ্জাক, তার ছেলে আহাদুর রহমান, আবদুল্লাহ সানি, মেয়ে উম্মে সুমাইয়া (ঐশী), নাতি সামিউল ইসলাম ফাহিম, বড় ছেলে আশরাফুল আলম (জনি), জনির স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা (পুতুল) এবং তাদের সন্তান আলিফ, আরফা ও ইরাম। মরদেহগুলো মোংলায় আনার পর শুক্রবার দুপুরে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। মর্মান্তিক এই ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন জলবায়ু, বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুল ওয়াদুদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিরা।
এ সময় জলবায়ু, বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, বিয়ের আনন্দঘন মুহূর্তে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা সবাইকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। যেখানে আনন্দ থাকার কথা ছিল, সেখানে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তিনি জানান, নিহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বুধবার (১১ মার্চ) রাতে মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল রাজ্জাকের ছোট ছেলে আহাদুর রহমানের সঙ্গে খুলনার কয়রা উপজেলার নাকসা গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালাম মোড়লের মেয়ে মার্জিয়া আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বর-কনেসহ দুই পরিবারের সদস্যরা মাইক্রোবাসে করে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা নৌবাহিনীর একটি স্টাফ বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাস চালকসহ মোট ১৪ জন নিহত হন।
.png)
0 Comments