সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে ১১ রানে হারিয়ে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। ২৯১ রানের লক্ষ্য রক্ষা করতে নেমে শুরুতেই পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান বাংলাদেশের পেসাররা। পরে সালমান আলি আগার লড়াই সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত ২–১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নেয় মেহেদি হাসান মিরাজের দল।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস জিতে বাংলাদেশকে প্রথমে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান পাকিস্তানের অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদি। ব্যাট করতে নেমে দুর্দান্ত সূচনা করে বাংলাদেশ। উদ্বোধনী জুটিতে আসে ১০৫ রান, যা দলের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়।
ইনিংসের ১৯তম ওভারে শাহীন আফ্রিদির বলে বোল্ড হওয়ার আগে সাইফ হাসান ৫৫ বলে ৩৬ রান করেন। এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত ভালো শুরু পেলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। হারিস রউফের বলে আউট হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ২৭ রান।
ম্যাচের বড় আকর্ষণ হয়ে ওঠেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। মাত্র ৪৭ বলে ফিফটি পূর্ণ করা তামিম পরের ফিফটি করতে খেলেন আরও ৪৯ বল। শেষ পর্যন্ত ১০৭ বলে ১০৭ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৭টি ছক্কা।
চতুর্থ উইকেটে লিটন কুমার দাস ও তাওহীদ হৃদয় ৬৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে বড় স্কোরের দিকে এগিয়ে নেন। লিটন ৪১ রান করে আউট হন হারিস রউফের বলে। পরে রিশাদ হোসেন প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে ফেরেন। শেষদিকে তাওহীদ হৃদয় ৪৪ বলে ৪৮ রানে অপরাজিত থেকে দলের ইনিংস এগিয়ে নেন। আফিফ হোসেন ৫ রানে অপরাজিত থাকেন।
পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন হারিস রউফ। এছাড়া আবরার আহমেদ ও শাহীন শাহ আফ্রিদি একটি করে উইকেট শিকার করেন।
২৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে পাকিস্তান। বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানার তোপে মাত্র ১৭ রানেই তিন উইকেট হারায় সফরকারীরা। ইনিংসের প্রথম ওভারেই তাসকিন ফিরিয়ে দেন সাহিবজাদা ফারহানকে (৬)। পরের ওভারে নাহিদ রানা আউট করেন মাজ সাদাকাতকে (৬)। এরপর নিজের দ্বিতীয় ওভারে মোহাম্মদ রিজওয়ানকে (৪) সাজঘরে ফেরান তাসকিন।
পরে গাজি ঘুরি ও আব্দুল সামাদ কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি কেউই। ঘুরি ৩৯ বলে ২৯ এবং সামাদ ৪৫ বলে ৩৪ রান করে আউট হন। একশর আগেই পাঁচ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান।
সেখান থেকে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন সালমান আলি আগা। তাকে সঙ্গ দেন অভিষিক্ত ব্যাটার সাদ মাসুদ। দুজন মিলে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়লেও মুস্তাফিজুর রহমানের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে ৩৮ রান করে বোল্ড হন মাসুদ।
পরে ফাহিম আশরাফ সালমানের সঙ্গে আরেকটি জুটি গড়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাসকিন আহমেদের বোল্ডে ৯ রান করে ফেরেন তিনি। শেষদিকে একাই লড়াই চালিয়ে যান সালমান আলি আগা, তবে জয়ের কাছাকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত ১১ রানের হার এড়াতে পারেনি পাকিস্তান।
বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন তাসকিন আহমেদ। তিনি একাই চারটি উইকেট শিকার করেন। তার সঙ্গে পেসারদের শুরুতেই আঘাতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ।
এই জয়ের মাধ্যমে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডেতে টানা সিরিজ জয়ের নতুন নজির গড়েছে বাংলাদেশ। এর আগে ২০১৫ সালে সর্বশেষ দ্বিপাক্ষিক সিরিজে পাকিস্তানকে ৩–০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ। এবারও সিরিজ জিতে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখল টাইগাররা।
.webp)
0 Comments