পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম থেকে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নগরবাসী ইতোমধ্যেই গ্রামের পথে রওনা দিয়েছেন, ফলে রেলস্টেশন ও বাস কাউন্টারগুলোতে বেড়েছে যাত্রীচাপ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। একইসঙ্গে নগরীর বিভিন্ন আন্তঃজেলা বাস কাউন্টারেও ধীরে ধীরে বাড়ছে যাত্রী সংখ্যা। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার এই যাত্রায় নগরী ক্রমেই ফাঁকা হতে শুরু করেছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্র জানায়, গত ৩ মার্চ থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি সম্পন্ন হয়। ১৩ মার্চ থেকে অগ্রিম টিকিটধারী যাত্রীদের যাত্রা শুরু হয়েছে। যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে এবার শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হচ্ছে, যা ভোগান্তি কমাতে সহায়ক হয়েছে।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে রেলস্টেশন এলাকায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং ‘টিকিট যার, ভ্রমণ তার’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। টিকিট যাচাই শেষে যাত্রীদের প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, ফলে শৃঙ্খলা বজায় থাকছে।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আবু জাফর মজুমদার জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক রয়েছে এবং বুধবার থেকে যাত্রীচাপ আরও বাড়তে পারে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ট্রেন চলাচল করছে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে রেলওয়ে পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী ও অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।
অন্যদিকে, কদমতলী আন্তঃজেলা বাস কাউন্টার ও গরীবুল্লাহশাহ মাজার এলাকায় সকাল থেকেই ঘরমুখো মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির তথ্যমতে, প্রতিদিন প্রায় ১২০০টি এসি ও নন-এসি বাস চলাচল করছে, যা দিয়ে প্রায় ৪০ হাজার যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে।
যাত্রীদের মধ্যে অনেকেই আগেভাগে যাত্রা শুরু করেছেন যানজট ও ভোগান্তি এড়াতে। সিলেটগামী এক যাত্রী সাব্বির হোসেন বলেন, পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের আনন্দ ভাগাভাগি করতেই আগেভাগে রওনা হয়েছেন এবং স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য ট্রেনযাত্রাকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

0 Comments