ইরান-সম্পর্কিত হ্যাকারদের সাইবার হামলায় বিপর্যস্ত বিশ্বখ্যাত মেডিকেল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্ট্রাইকার
ডেস্ক রিপোর্ট | বাংলাদেশ জাতীয় সংবাদ (BNN)যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্বখ্যাত মেডিকেল প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্ট্রাইকারের (Stryker) বৈশ্বিক নেটওয়ার্কে বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইরান-সম্পর্কিত এক হ্যাকটিভিস্ট গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করে জানিয়েছে, চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রেক্ষাপটে প্রতিশোধমূলক এই সাইবার অভিযান চালানো হয়েছে।
হ্যাকারদের দাবি অনুযায়ী, তারা কোম্পানির অভ্যন্তরীণ সার্ভার ও নেটওয়ার্কে প্রবেশ করে প্রায় ৫০ টেরাবাইটের বেশি তথ্য নিজেদের দখলে নিয়েছে। পাশাপাশি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেম অচল করে দেওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
হামলার দায় স্বীকার করা ‘হানদালা’ নামের হ্যাকটিভিস্ট গোষ্ঠী দাবি করেছে, ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে সামরিক হামলায় বহু মানুষের মৃত্যুর ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে তারা এই সাইবার হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, ওই হামলায় অধিকাংশই স্কুলছাত্রীসহ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে।
সাইবার হামলার ফলে স্ট্রাইকারের উইন্ডোজভিত্তিক অনেক ডিভাইস ও সার্ভার অচল হয়ে পড়ে। কর্মীদের ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ডিভাইস থেকে কোম্পানির নেটওয়ার্কে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি। কিছু ক্ষেত্রে লগইন পেজে হ্যাকার গোষ্ঠীর লোগোও দেখা গেছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় স্ট্রাইকার কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাইবার হামলার কারণে তাদের মাইক্রোসফটভিত্তিক বৈশ্বিক নেটওয়ার্কে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো র্যানসমওয়্যার বা ক্ষতিকর ম্যালওয়্যার ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞ সাইবার নিরাপত্তা দল কাজ করছে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মেডিকেল প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্ট্রাইকার কৃত্রিম জয়েন্ট, সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি, হাসপাতালের বেড এবং রোবোটিক সার্জারি প্রযুক্তি তৈরি করে। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, তাদের পণ্য বিশ্বের ৬১টিরও বেশি দেশে ব্যবহৃত হয় এবং প্রতি বছর প্রায় ১৫ কোটির বেশি রোগীর চিকিৎসায় এসব প্রযুক্তি সহায়তা করে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পশ্চিমা অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমেই সাইবার হামলার ঝুঁকিতে পড়ছে। ফলে আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

0 Comments