Ticker

6/recent/ticker-posts

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সরাসরি যুদ্ধে? স্থলবাহিনী নামানোর ইঙ্গিত কতটা বাস্তব

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সরাসরি যুদ্ধে? স্থলবাহিনী নামানোর ইঙ্গিত কতটা বাস্তব
ডেস্ক রিপোর্ট | বাংলাদেশ জাতীয় সংবাদ (BNN)

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা দ্রুত বিস্তৃত সংঘাতে রূপ নিচ্ছে। আকাশ ও সমুদ্রপথে হামলা–পাল্টা হামলার পর এখন মূল প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে, দুই দেশ কি কার্যত সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে এবং ওয়াশিংটন কি ইরানের মাটিতে স্থলবাহিনী পাঠাতে যাচ্ছে।

গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে “অপারেশন এপিক ফিউরি” নামে একটি সামরিক অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ইরানের সামরিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, নৌ অবকাঠামো এবং কমান্ড সেন্টার লক্ষ্যবস্তু করা হয়। ওয়াশিংটনের দাবি, এটি ছিল নির্দিষ্ট সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার উদ্দেশ্যে সীমিত পরিসরের অভিযান। তবে তেহরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে সংঘাতের পরিধি বাড়িয়ে দেয়।

ইরানের প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে যুক্তরাষ্ট্র-সম্পৃক্ত সামরিক ও কূটনৈতিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার খবর এসেছে। এতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে এবং সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা জোরালো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সামরিক অভিযান কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। তিনি সরাসরি স্থলবাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা না দিলেও বলেছেন, প্রয়োজনে সব বিকল্প খোলা রয়েছে। তার এই বক্তব্য থেকেই ‘boots on the ground’ ইস্যুতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

পেন্টাগনের পক্ষ থেকেও একই ধরনের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। তবে স্থলযুদ্ধ শুরু হবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থলবাহিনী মোতায়েন করা হলে সংঘাতের চরিত্র বদলে যাবে এবং তা দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করবে।

সংঘাতে উভয় পক্ষেই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ইরানে সামরিক সদস্য ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও তাদের কয়েকজন সেনা নিহত ও আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এতে পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।

আইনি প্রেক্ষাপটও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। ওয়াশিংটন কংগ্রেসকে সামরিক অভিযানের বিষয়ে অবহিত করেছে, তবে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকলেও প্রেসিডেন্ট নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সামরিক অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিতে পারেন। এ নিয়ে কংগ্রেসের ভেতরেও বিতর্ক শুরু হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিস্তৃত সামরিক সংঘাত চলছে, তবে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা এখনো হয়নি। স্থলবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্তও চূড়ান্ত নয়। সাম্প্রতিক বক্তব্য ও পদক্ষেপ ইঙ্গিত দিচ্ছে, পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। এই সংঘাতের প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র আল জাজিরা

Post a Comment

0 Comments

×
×