Ticker

6/recent/ticker-posts

খুলনা কয়রায় ভুয়া সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠনের দৌরাত্ম্য, প্রতারণার শিকার সাধারণ মানুষ

বাংলাদেশ জাতীয় সংবাদ (BNN) অনুসন্ধান

খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রায় ভুয়া সাংবাদিক ও নামসর্বস্ব মানবাধিকার সংগঠনের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাংবাদিকতা ও মানবাধিকার কর্মীর পরিচয় ব্যবহার করে একটি চক্র বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। এতে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত হয়রানি ও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।

বিএনএনকে কয়েকজন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিক জানান, সাম্প্রতিক সময়ে কয়রার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে কথিত সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠন। এসব সংগঠনের অনেকেরই কোনো নিবন্ধন নেই, নেই সাংবাদিকতা বা মানবাধিকার কার্যক্রমের বাস্তব অভিজ্ঞতাও।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিছু সংগঠন সদস্যপদ ও বিভিন্ন পদ দেওয়ার নামে অর্থ আদায় করছে। অভিযোগ রয়েছে—নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে আইডি কার্ড, ইউনিয়ন বা উপজেলা কমিটির পদ এবং বিভিন্ন পরিচয়পত্র দেওয়া হচ্ছে। অনেকেই এসব পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে প্রভাব বিস্তার করছেন।

কয়রার একাধিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনএনকে বলেন, অনেক সময় নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে দোকানপাট বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ দাবি করা হয়। কেউ টাকা দিতে অস্বীকার করলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

বিএনএনকে কয়রার কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এসব ভুয়া সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। কেউ কেউ ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্ট বা লাইভের মাধ্যমে নিজেদের প্রভাবশালী হিসেবে তুলে ধরে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।

এদিকে প্রকৃত সাংবাদিকদের দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে সাংবাদিকতা পেশার ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কয়রায় কর্মরত কয়েকজন পেশাদার সাংবাদিক বিএনএনকে বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছেন, যা পেশার জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, মানবাধিকার ও সাংবাদিকতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের নাম ব্যবহার করে কেউ যেন প্রতারণা করতে না পারে, সে জন্য প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভুয়া পরিচয়ে চাঁদাবাজি বা প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণিত হলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এলাকাবাসীর মতে, প্রশাসনের সক্রিয় পদক্ষেপ এবং সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে এ ধরনের ভুয়া সংগঠন ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড অনেকটাই কমে আসবে এবং সাধারণ মানুষও নিরাপদ থাকবে।

Post a Comment

0 Comments

×
×