ডেস্ক রিপোর্ট | বাংলাদেশ জাতীয় সংবাদ (BNN)
মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সামরিক পরিস্থিতি। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং একাধিক দেশে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটায় বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে আকস্মিক সামরিক হামলা চালায়। হামলার পরপরই সম্ভাব্য পাল্টা আক্রমণের আশঙ্কায় ইসরায়েলজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানিয়েছেন, ইরানের সম্ভাব্য ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এদিকে হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ইরান থেকে ছোড়া কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের দিকে ধেয়ে আসতে শনাক্ত করা হয়েছে। এর ফলে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় জরুরি সাইরেন বেজে ওঠে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘাতের প্রভাব ইসরায়েল ও ইরানের সীমা ছাড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার ও সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এসব দেশের কয়েকটি স্থানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকায় পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাহরাইনের জাফায়ার এলাকায় বিস্ফোরণের পর আকাশে ঘন ধোঁয়া দেখা যায়। এলাকাটির কাছেই মার্কিন নৌবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি রয়েছে। একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়, যদিও তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
কুয়েতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর দেশজুড়ে সতর্কতা সাইরেন বাজানো হয়। অন্যদিকে কাতারের রাজধানী দোহায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে আকাশেই নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।
একই সময়ে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদেও বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি। পরিস্থিতির কারণে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং অঞ্চলজুড়ে বড় আকারের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে।

0 Comments