Ticker

6/recent/ticker-posts

শহিদ মিনারে প্রকাশ্যে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা: নিহত কলেজছাত্র রাকিবুল

ঢাকা প্রতিনিধি | বাংলাদেশ জাতীয় সংবাদ (BNN)

রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রাকিবুল ইসলাম (২৭) নামে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। রবিবার (১৫ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এর আগে রাত সোয়া ৯টার দিকে শহিদ মিনার এলাকায় দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন রাকিবুল। পরে সঙ্গীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত রাকিবুল ইসলাম পুরান ঢাকার নিমতলি এলাকার তরিকুল ইসলাম খোকনের ছেলে। তিনি শেখ বোরহান উদ্দিন কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ভিডিও কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের দিকে হঠাৎ কয়েকজন দুর্বৃত্ত কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার এলাকায় প্রকাশ্যে প্রায় চার রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন রাকিবুল ইসলাম।

আহত রাকিবুলকে হাসপাতালে নিয়ে আসা জিএম ইশান জানান, রাতে তারা কয়েকজন বন্ধু শহিদ মিনারের পাশে আড্ডা দিচ্ছিলেন। হঠাৎ কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। পরে তারা এগিয়ে গিয়ে দেখেন রাকিবুল রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। তখন দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

অন্যদিকে রাকিবুলের বন্ধু রনি জানান, ঘটনার সময় তারা কয়েকজন মেয়ে বন্ধুসহ শহিদ মিনারের পাশের একটি চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিলেন। এ সময় এক যুবক রাকিবুলকে ডেকে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর গুলির শব্দ শুনে তারা শহিদ মিনারের দিকে গিয়ে দেখেন রাকিবুল রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। তার মাথায় গুলির আঘাতের পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের কোপের চিহ্ন ছিল।

এদিকে ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা সন্দেহভাজন এক যুবককে আটক করে শাহবাগ থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মিঠু ফকির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শহিদ মিনার এলাকায় এক শিক্ষার্থীকে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। তার মাথায় একটি গুলি লেগেছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।

Post a Comment

0 Comments

×
×